অনুষ্ঠানে গান বাজালে জানাজা বা বিয়ে না পড়ানোর ঘোষণা

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের একটি এলাকায় বিয়ে, সুন্নতে খাৎনা, গায়ে হলুদের মতো অনুষ্ঠানে গান-বাজনার আয়োজন করা যাবে না বলে মাইকিং করা হয়েছে। ইসলাম ধর্মাবলম্বী কোনো পরিবার এ নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের বিয়ে পড়াতে বা দোয়ায় কোনো আলেম অংশগ্রহণ করবেন না। এমনকি ওই পরিবারের কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার জানাজা পড়াতেও মসজিদের ইমাম বা অন্য কেউ অংশগ্রহণ করবে না বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার উপজেলার বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় পঞ্চায়েত ও মসজিদ কমিটির লোকজন বাগে জান্নাত জামে মসজিদে জুমার নামাজের সময় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাব্বির আহম্মেদ ইমন। এই সিদ্ধান্তের সাথে তিনি নিজেও একমত আছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাব্বির আহম্মেদ ইমন বলেন, ‘বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাগে জান্নাত জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান জুমার নামাজের খুতবার আগে বিয়ে ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে গান-বাজনার প্রসঙ্গটি তোলেন।পরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি সর্বসাধারণকে অবগত করতে এলাকায় মাইকিংও করা হয়। এই নির্দেশ কেউ অমান্য করলে তার জানাজা ও বিয়েতে কোনো ইমাম বা আলেমরা যাবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘উচ্চস্বরে গান-বাজনায় মানুষের ক্ষতি হয়। বারবার বলার পরেও কেউ তা মানছেন না। এজন্য এবার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঘরের ভেতর টিভিতে কিংবা মোবাইলে গান শুনলে তাতে সমস্যা নেই। শুধুমাত্র লাউড স্পিকারে গান না বাজানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে।’এ প্রসঙ্গে বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশীদ বলেন, ‘এমন ঘোষণা কেউ করতে পারেন না। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নেবো।’

বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘উচ্চস্বরে কেউ গান বাজিয়ে অন্যকে বিরক্ত করলে সেটা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এই জানাজা ও বিয়ে না পড়ানোর বিষয়টা বাড়াবাড়ি।’বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকার বলেন, ‘এমনটা তারা করতে পারেন না। এ বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে। বিশেষ করে ইউপি মেম্বারকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।’

করোনাকালে গান-বাজনার ব্যাপারে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুদ্দীন চৌধুরি বলেন, ‘মহামারি করোনাকালের শুরু থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে লাউড স্পিকারে গান-বাজনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ, গান-বাজনার আয়োজন করলে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। করোনা ভাইরাস যাতে ছড়াতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যে সর্বসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে আমরা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারি আদেশ বাস্তবায়ন করতে লকডাউনের সময় থেকেই সকল এলাকার পঞ্চায়েত কমিটি, মসজিদ কমিটি ও জনপ্রতিনিধিদের অবগত করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি আদেশ এখন পর্যন্ত বলবৎ থাকলেও অনেক এলাকাতেই তা মানা হচ্ছে না। তাই কোন কোন এলাকায় পঞ্চায়েত কমিটি, মসজিদ কমিটি ও জনপ্রতিনিধিদের কঠোর হতে হচ্ছে। তবে কেউ মারা গেলে তার জানাজায় নামাজ পড়াতে মসজিদের ইমাম বা অন্য কেউ অংশগ্রহণ করবে না এবং বিয়ে পড়াতে বা দোয়ায় কোনো আলেম অংশগ্রহণ করবে এমন ঘোষণার কথা আমার জানা নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন ধরণের কোন কঠোর সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি। যদি কেউ করে থাকে তাহলে তা ঠিক করেনি।’

Check Also

খেজুর গাছের মাথায় নামাজ পড়ে হৈচৈ ফেললেন যুবক

রাজশাহীর তানোরে খেজুর গাছের মাথায় উঠে নামাজ পড়ে হৈচৈ ফেললেন আব্দুর রহিম (২৮) নামের এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *